শিক্ষার্থীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটা বিষয়

শিক্ষার্থীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটা বিষয়

আপনি একজন শিক্ষার্থী, আপনার সুন্দর আগামী, স্বপ্ন ও নিজেকে গড়তে হলে, আপনাকে শিক্ষার্থী অবস্থায় অনেক কিছুই করতে হবে।

আমাদের সকলের জীবনেই BALANCE, MANAGE এবং ADJUST এই তিনটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন। কেননা, প্রতিটি মানুষের জীবনে অনেক ধরনের সমস্যা, জটিলতা ও বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয় বা সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু ৮০% মানুষ চায় সেসব সমস্যা বা পরিস্থিতি গুলোকে এড়িয়ে চলতে। যেটা উচিত নয়।

(১) #Balance – আপনি একজন শিক্ষার্থী, আপনার সুন্দর আগামী, স্বপ্ন ও নিজেকে গড়তে হলে, আপনাকে শিক্ষার্থী অবস্থায় অনেক কিছুই করতে হবে। যেমন পড়ালেখা, ক্লাস করা, খেলাধুলা, টিভি দেখা, বন্ধুদের সময় দেয়া, নিজের লিডারশীপ, নেটওয়ার্ক, কমিউনিকেশন স্কিল সহ বিভিন্ন সফট স্কিল গুলো বাড়ানোর জন্য ক্লাব / সংগঠন অথবা ফোরাম করা, বাসায় সময় দেয়া, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বা দায়িত্ব নেয়া, টিউশন বা পার্ট টাইম জব করা, ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই আপনাকে করতে হবে। এবং এই সব কাজ গুলো একসাথে করা বা করতে পারাটা এতো সহজ নয়। শতকরা ৭৫% এরও বেশি শিক্ষার্থী শুধুমাত্র পড়ালেখা ও টিউশন নিয়েই মহাব্যস্ত থাকে। এসবকিছু একসাথে করতে পারে না। তারা শুধু এটাই চিন্তা করে যে ‘এটা করতে গিয়ে,ওটার ক্ষতি হয়ে যাবে, ওটা করতে গিয়ে এটার ক্ষতি হয়ে যাবে’। আসলে মূল সমস্যাটা হল Balance করা নিয়ে। ওরা Balance করতে জানে না। আপনার মত ক্লাস আরে টিউশন করার পরেও সব কিছু করছে এমন অনেকেই আছে। সবগুলো কাজই আপনার জন্য গুরুত্বপুর্ন, আপনাকে কাজের সময়সূচী থেকে শুরু করে সব কিছুই ভাগ করে ফেলতে হবে। লাইফের ডেইলি ছক এঁকে ফেলতে হবে। Balance করা শিখতে হবে।

(২) #Manage – এবার আসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ইস্যু হল Manage করা। বুঝলাম আপনি Balance করা শিখে গিয়েছেন। খুব সুন্দরভাবে নিজের প্রতিদিনের কাজ গুলোকে ভাগ করেছেন, নিজেকে একটি ছকের ভিতর নিয়ে এসেছেন। কিন্তু সঠিক সময় গুলোতে সব কিছু ঠিকভাবে করতে পারছেন না, মনে হচ্ছে একদিনে ৪৮ ঘন্টা হলে ভাল হতো। একটা করতে গিয়ে আরেকটা হচ্ছে না, টিউশন করতে গেলে ক্লাব করা হচ্ছে না, বা ক্লাব করতে গিয়ে বাসায়, বা নিজের কাজের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এটার মূল কারন হল – Manage করতে না পারা এবং আপনার Balance কাজ করছে না। আপনি একটাতে ফোকাস করতে গিয়ে অন্য একটাতে আপনার involvement কমে যাচ্ছে। কারন আপনি Manage করতে পারছেন না। যদি আপনি Manage করতে পারতেন তাহলে আপনি সব কিছুই করতে পারতেন। আমি Somen Kanungo’র মতে manage করতে গেলে সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার সেটা হল – আন্তরিকতা বা ভালবাসা। Manage করতে পারাটা লিডারশীপের একটা বড় অংশ। ফাঁকিবাজি আর Manage করা কিন্তু এক না। Manage করতে শিখুন, সময়ের কাজ সময়ে করুন, দেখবেন ২৪ ঘন্টায় এক দিন, ওটা ঠিকই আছে। “How to manage” এটা নিয়ে পরে কখনো বিস্তারিত লিখবো, যদি আপনারা চান।

“মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল তার ইচ্ছা শক্তি, আন্তরিকতা, আত্মবিশ্বাস ও কর্ম দক্ষতা।”

প্রকৌশলী সোমেন কানুনগো; প্রতিষ্ঠাতা, ডি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব।

(৩) #Adjust – বুঝে নিলাম পরিস্থিতি খুব খারাপ, আপনি অনেক কষ্ট করে Manage করে বেলেন্স করে নিলেন। কিন্তু কোন রকমেই Adjust করতে পারছেন না। তাহলে কিন্তু হবে না। এই Adjust কিভাবে করতে হয় সেটা নারীদের কাছ থেকে শিখা উচিত। আমাদের বাঙালি নারীরা বিয়ের পর একটি নতুন পরিবেশে ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে নিজেকে খুব সুন্দর ভাবে মানিয়ে নেয়। মানুষকে তার জীবনে, অনেক ধরনের পরিস্থিতি ও পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয় যা নিজের অনুকূলে থাকে না। আপনার মধ্যে অনেক ইগো প্রোব্লেম থাকার কারণেও হয়ত আপনি মানিয়ে নিতে পারবেন না। কিন্তু আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে। নিজেকে এডজাস্ট করতে হবে। আর নিজেকে Adjust করতে পারা মানেই সবখানেই আপনার বিজয়। পরাজয় ও কিন্তু মেনে নিতে হবে, ওটা Adjust এর অংশ। কিছু পরাজয় বিজয়ের নিশানাও নির্দেশ করে।

লেখকঃ প্রকৌশলী সোমেন কানুনগো; প্রতিষ্ঠাতা, ডি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব।

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin
Share on skype
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on print